আজ সেই ভয়াল ২৮ অক্টোবর। আওয়ামী লীগ এমন এক জাতের রাজনৈতিক দল, আপনি চাইলেও এদের ভুলে থাকতে পারবেন না। এদের অপকর্ম প্রতি মাসে, প্রতি সপ্তাহে আছে। এদের জুলুমের খতিয়ান আছে প্রতিটি দিনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে। যেমন আজ ২৮ অক্টোবর, সেই ভয়াল লগি-বৈঠার দিন। ২০০৬ সালের এই দিনে আওয়ামী সভানেত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি নির্দেশে প্রকাশ্য রাস্তায় লগি-বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে মানুষ হত্যায় মেতেছিল ওরা।
২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর নয়াপল্টনে আমাদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশকে পরিকল্পিতভাবে নসাৎ করে দিয়েছিল এই আওয়ামী লীগ এবং তার আজ্ঞাবহ পেটোয়া বাহিনী। কী বর্বরতা চালিয়েছিল সেদিন, ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। আমার চোখে এখনো সেসব স্পষ্ট ভেসে উঠছে। মনে আছে, এর আগের দিন রাত জেগে মঞ্চ তৈরির কাজ তদারকি করেছিলাম। এসব করতে করতে কখন যে ভোর হয়ে গেছে টেরই পাইনি। ইতোমধ্যে রাত থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী তখন পল্টন অফিসের সামনে জমায়েত হয়েছেন। রাত থেকে ভোর হয়েছে, কিন্তু কর্মব্যস্ততায় বাসায় যাওয়া হয়নি। সকালে অফিসে নাস্তা সেরে আবার যথারীতি তদারকিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছি। সকাল থেকে লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মীর ঢল তখন পল্টন অভিমুখে।

কিন্তু আওয়ামী লীগের পরিকল্পনা ছিল পুরোই উল্টো। দুপুরে সমাবেশ শুরুর কিছুক্ষণ পরেই তারা তাদের কর্মযজ্ঞ শুরু করে। আমার এখনো মনে আছে, মঞ্চের চতুর্দিক থেকে গুলি করতে করতে ওরা আমাদের মঞ্চের দিকে এগিয়ে আসছিল। আমি তখন মঞ্চের পেছনের দিকে আমাদের অফিসের গেইটের এক কোণায় ছিলাম। নেতাকর্মীদের যথাসম্ভব সরানোর চেষ্টা করছি। অনেকে তখন আমাকে বলছে, ভাই যাবো না, লড়াই করবো। তাদের আবেগ বুঝতে পারলেও বাস্তবতা ছিল পুরোই ভিন্ন। আওয়ামী লীগের সেদিন টার্গেট ছিল আমাদের শত শত নেতাকর্মীকে হত্যার। কিন্তু আমাদের নেতা জনার তারেক রহমান সর্বাগ্রে গুরুত্ব দিয়েছিলেন নেতাকর্মীদের প্রাণ রক্ষার দিকে।
আওয়ামী পেটোয়া বাহিনীর মুহুর্মুহ গুলি, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেডের মুখে বহুটা সময় ধরে লড়াই করেছিলাম এবং প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলাম। কিন্তু খালি হাতে লড়াই আর কতক্ষণ করা যায়। আমরা বুঝতে পেরেছিলাম তাদের পরিকল্পনা ভিন্ন। ওরা চায় আমাদের লাশ। ফলে আমরা তখন বাধ্য হয়ে পিছু হটি।

আওয়ামী পেটোয়া বাহিনী এবং আওয়ামী সন্ত্রাসীরা যখন আমাদের নেতাকর্মীদের বিনাশে যথেচ্ছভাবে মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তখন আমাদের নেতা জনাব তারেক রহমানের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা আর নেতাকর্মীদের জন্য তার যে অসীম ভালোবাসা সেদিন প্রত্যক্ষ করেছি, তা কোনদিন ভুলবো না। আমি এখন নির্দ্বিধায় বলতে পারি, এমন অভিভাবক পেয়ে আমি ও আমাদের দলের সকল নেতাকর্মী সত্যিই গর্বিত।
আজ এ বেলায় এসে দেখতে পাই, আমার নেতার দূরদর্শিতায় আজ আমরা কোথায় আছি আর অপরপক্ষে আওয়ামী নেত্রীর হঠকারিতায় তারা এখন ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছেন।
আওয়ামী লীগের পাপের ঘরা এখন কানায় কানায় পূর্ণ। ২০২৪ সালে তা উপচে পড়েছে। আওয়ামী লীগ মনে হয় শপথ নিয়েছিল ওদেরকে ভুলে থাকতে দেবে না। তাই অপকর্ম আনলিমিটেড মিশন হাতে নিয়েছিল সেই মুজিবের সময় থেকে। এখন আবার সাইকোপ্যাথ হাসু মানুষ হত্যার জন্য তাগাদা দিচ্ছে। বিএনপি-জামায়াতের বাড়ি ঘর পুড়িয়ে দিতে বলছে। কিন্তু কথা হলো, শকুনের দোয়ায় কি গরু মরে? কী বলেন বন্ধুরা!
লেখক: নির্বাহী কমিটির সদস্য, বিএনপি















